মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন

বিজয়নগরে বৈরী আবহাওয়ায় লিচু চাষিদের মুখ মলিন।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর কাঙ্খিত ফলন না হওয়ায় লিচু চাষিদের মুখে হাসি ফুটছেনা। বছরের এ মধু মাসে লিচুর নাম শুনতেই জিভে পানি আসতে থাকে, টসটসে রসালো লিচু, খেতে ভারী স্বাদ। কলম করা লিচু গাছে ১ বছর পর থেকে লিচুর ফুল ধরতে শুরু করে, কিন্তু ২ বছর ফাক দিয়ে ফল তুললে ভাল হয়, এবং একাধারে ৪০/৫০ বছর পর্যন্ত লিচু ধরে থাকে। এবং বছরের ডিসেম্বরের শেষ সময়ে ফুল আসতে শুরু করে মে মাসের শুরুতে কিছু কিছু লিচু বাজারজাত হতে থাকে,এবং মে মাসের মাঝে পুরোদমে লিচু বিক্রি শুরু হয়ে এক মাসের মধ্যেই লিচুর বাজার শেষ।

ভরা মৌসুমে লিচু বাজারে পাওয়া যায়, কিন্তু নিজ হাতে গাছ হতে লিচু খাওয়ার মজাই আলাদা, তাইতো ভরা মৌসুমে লিচু বাগান গুলোতে ঘোরার জন্য প্রায় সব বয়সী মানুষের আনাগোনা লক্ষ করা যায়। সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা ও আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। লিচুর ভাল ফলনের আশায় কৃষক বুকবাধে ও লিচু গাছের নিবিড় পরিচর্যা করে থাকে, এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।

সুপ্রাচীন কাল থেকে এ এলাকায় লিচুর আবাদ হয়ে থাকলেও ২০০১ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে এর আবাদ শুরু হয়। উপজেলায় মোট ৩৭৫ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। উপজেলার পাহাড়পুর ইউপি, বিষ্ণুপুর ইউপি, চম্পকনগর ইউপি ও সিঙ্গারবিল ইউপিতে বেশী আবাদ হয়েছে, তন্মধ্যে শুধু পাহাড়পুরে ২০০ হেক্টর জমিতে এর আবাদ হয়েছে। পাহাড়ি লাল বেলে মাটি লিচু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

চাষীরা জানান, এখানে বিভিন্ন জাতের লিচুর আবাদ হয় থাকে – দেশীয়, চায়না থ্রি , বোম্বাইয়া , এলাচি ও পাটনা। তনমধ্যে চায়না থ্রী ও বোম্বাইয়া জাতের লিচুর আকারে বড়, সুমিষ্ট স্বাদ হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি।

এলাকার লিচু চাষী জানান, লিচু গাছের জন্য পরিমাণ মতো সার কিটনাশক, এবং সময় সময় গাছের গোড়ায় পানি একান্ত দরকার, সব কিছু ঠিক থাকলে সঠিক মাত্রায় ফলন আশা করা যায়। বৈরী আবহাওয়া ৩৯ ডিগ্রী তাপমাত্রা অতিখরা ও অনাবৃষ্টি এবং পানির উৎস না থাকায় কৃষক লিচু গাছের গোড়ায় প্রয়োজন মতো পানি সর্বরাহ করতে না পাড়ায়, এ বছর লিচুর চামড়া ফেটে অনেক ফল নষ্ট হয়েছে,

অনেক কৃষক জানান, লিচু গাছের রোগ বালাই দমনে ভালো মানের কীটনাশক গাছের জন্য খুব দরকার, একটি বাগানের জন্য অনেক টাকার কিনাশক প্রয়োজন, গরীব কৃষক তাই বাকীতে তা ক্রয় করে, আর এ সুযোগকে কাজে লাগায় বাজারে কিটনাশক ব্যবসায়ীরা, অতি মুনাফার আশায়, অতি কম দামের খারাপ কিটনাশককে ভাল বলে চালিয়ে দিচ্ছে। এতে করে গাছের পোকা দমন ও রোগবালাই দুর হচ্ছে না, ফলে গাছ থেকে অজস্র হারে ফল ঝরতে থাকে। আর এসব কারণে কৃষক আশানুরুপ ফল পাওয়া থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে।

সরেজমিনে বাজার ঘুরে জানাযায়, উপজেলার আউলিয়া বাজার ও চম্পকনগর বাজার এর নিত্য পাইকারী হাট, ভোর ৫ টা থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত এ হাট বসে, ছোট বড় যান নিয়ে ভোর রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকাররা বাজারে চাষীদের লিচু নিয়ে নিয়ে আসার অপেক্ষায় থাকে, পাইকারি লিচু হাজার হিসেবে দাম নির্ধারণ হয়, সাইজে বড় ও সু মিষ্ট হওয়ায় চায়না ও বোম্বাইয়া এর দাম ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকা, অন্যান্য লিচুর বাজার দর টাকা ১৮০০ টাকা।
লিচু খুচরা ”শ” হিসেবে বিক্রি হয়।

ভিটিদাউদপুর গ্রামের মাঈনউদ্দীন রুবেল বলেন, প্রচন্ড খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে এ বছর লিচুর শাঁস কম হওয়ায়, আকারে ছোট হয়েছে । পাহাড়পুর ইউপির প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় ও আশপাশের ভিটা বাড়িতে লিচু গাছ দেখা যায়।

লিচু ব্যবসায়ী আলী আকবর বলেন, এ বছর আগাম লিচুর বাগান কিনে কিছ‚ ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পড়েছে।

এ বিয়য়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পাহাড়পুর এরিয়া, আশরাফুল আলম জানান, এবছর আবহাওয়ার প্রতিকুল পরিবেশেও লিচুর ফলন তেমন কম হয়নি, তবে লিচুর বাজার মূল্য ভাল পাচ্ছে কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আরো ভাল ফলন হতো।

এ বিয়য়ে উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা নুরে আলম, জানান আমরা কৃষকদের ভালমানের কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকলেও কৃষকরা নিম্ন মানের কীটনাশক ক্রয়ে প্রতারিত হচ্ছে।

এ বিয়য়ে উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা জুনায়েদ আল সাদী জানান, উপজেলায় মোট ৩৭৫ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় লিচু ফলনের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে লিচু লাভ জনক ফল।

এ বিয়য়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: খিজির হোসেন প্রামানিক জানান, জেলার মোট লিচু চাষের, সিংহভাগ জায়গায় লিচুর আবাদ হয় এ উপজেলায়। লিচু চাষে কৃষকরা লাভবান তাই এর আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই নিউজটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত bijoynagartv ওয়েবসাইটের কোন তথ্য কপি করা আইনত দণ্ডনীয়।
Developer: DesigUs
error: ওয়েবসাইটের তথ্য কপি করা আইনত দণ্ডনীয়