ছাতকে সরকারি ভূমি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত-অভিযোগ দায়ের

ছাতকে সরকারি ভূমি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত-অভিযোগ দায়ের

বিশেষ প্রতিনিধি:সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজালাবাদ ইউনিয়নের সোনালী বাংলাবাজারে মাকুন্দা নদীর তীরবর্তী সরকারি ভূমি জবরদখল ও ভিটা বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২৩ জুন ২০২৪ইং তারিখে রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগ দায়ের করে উপজেলার ব্রাম্মন জুলিয়া গ্রামের মৃত. হাজী মনুফর আলীর ছেলে মো. মর্তুজ আলী।

এতে উপজেলার ব্রাম্মন জুলিয়া গ্রামের মৃত. আব্দুল খালিক ওরফে চান্দ আলীর ছেলে এখলাছুর রহমান ফয়েজ, একই গ্রামের মৃত. মছদ্দর আলীর ছেলে মো. ছিদ্দেক আলী, শেখ পাড়া গ্রামের মৃত. লিলু মিয়ার ছেলে মো. কছির মিয়া, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কোনাউড়া নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত. আজম আলীর ছেলে মো. ছোরাব উদ্দিন, একই উপজেলার সাতপাড়া গ্রামের মৃত, আব্দুর রহমান এর ছেলে মো. আব্দুর রউফ, নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আস্তফা মিয়ার ছেলে মো. ইরন মিয়াসহ ১০/১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের অন্তরর্গত ছাতক-বিশ্বনাথ উপজেলার সীমান্ত বর্তি এলাকায় অবস্থিত সোনালী বাংলা বাজার। ছাতক উপজেলার ছৈলা- আফজলাবাদ ইউপি, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউপি ও দৌলতপুর ইউপিসহ এই তিনিটি ইউনিয়নের প্রায় ১০/১৫টি গ্রামের স্থানীয় জনসাধারণের হাট-বাজার হিসাবে পরিচিত সোনালী বাংলা বাজার। অভিযুক্তরা সোনালী বাজারে অন্যায় ও দূর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা লোটপাট করে আসছেন। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলেন না। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই ২ লক্ষ টাকা নিয়ে বাজারে হাজির হতে হয়।

সামাজিক ভাবে এই ধরনের আইন করে এই বাজার এলাকায় এখলাছুর রহমান ফয়েজ ও মো. ছিদ্দেক আলী নেতৃত্বে ক্ষমতার দাপট চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। স্থানীয় হাট বাজারে বাজার পরিচালনার জন্য ব্যবসীদের মাধ্যমে ১টি কমিটি থাকে, কিন্তু অভিযুক্তরা এই সুযোগ দেন নাই। তারা তাদের ইচ্ছা মত ২টি কমিটি রাখেন। একটি জেনারেল কমিটি অপরটি ম্যানেজিং কমিটি। জেনারেল কমিটির সভাপতি থাকেন এখলাছুর রহমান ফয়েজ আর ম্যানেজিং কমিটির ক্যাশিয়ার থাকেন মো. ছিদ্দেক আলী। তারা সোনালী বাংলা বাজারের দক্ষিনে মাকুন্দা নদীর তীর যাহা ১নং খতিয়ান ভূক্ত ভূমি বিগত প্রায় ২ বছর আগে বিক্রি করে ২০-২১ লাখ টাকা টাকা উপার্জন করেন। নদীর তীরে পাকা দালান দোকানঘর তোলার অনুমতি দেন। পরবর্তীতে এই ব্যাপারে সরকারী ভাবে বাধা নিষেধ আসলে কাজ স্থগিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

সম্প্রতি আবার অভিযুক্তরা আইনের চুখে ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে নদীর তীরে পাকা দোকান ঘরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নদীর তীর ঘেষে সরকারি পাকা রাস্তা রয়েছে। ভবিষৎতে এই সরকারি রাস্তা বর্ধিত করার প্রয়োজন দেখা দিলে সমস্যা দাঁড়াতে পারে। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, বাজারের আরোও দোকান কোঠা বিক্রি করে লাখ রাখ টাকা আত্মসাৎ করার পায়তারা করা হচ্ছে। এমতাবস্তায় অবস্থায় স্থানীয় সোনালী বাংলা বাজারকে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বাজারের শান্তি শৃঙ্খলা সু-বহাল রাখার স্বার্থে ও অভিযুক্তদের কবল থেকে বাজার উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, অভিযোগটি আমার হাতে পৌছায়নি, তবে অফিসে খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিজয়নগরে চুরির অপবাদে ১-নারীকে নির্যাতনের দায়ে-২ ইউপি সদস্য গ্রেফতার

ছাতকে সরকারি ভূমি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত-অভিযোগ দায়ের

আপডেট টাইম : ০২:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০২৪

ছাতকে সরকারি ভূমি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত-অভিযোগ দায়ের

বিশেষ প্রতিনিধি:সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজালাবাদ ইউনিয়নের সোনালী বাংলাবাজারে মাকুন্দা নদীর তীরবর্তী সরকারি ভূমি জবরদখল ও ভিটা বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২৩ জুন ২০২৪ইং তারিখে রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগ দায়ের করে উপজেলার ব্রাম্মন জুলিয়া গ্রামের মৃত. হাজী মনুফর আলীর ছেলে মো. মর্তুজ আলী।

এতে উপজেলার ব্রাম্মন জুলিয়া গ্রামের মৃত. আব্দুল খালিক ওরফে চান্দ আলীর ছেলে এখলাছুর রহমান ফয়েজ, একই গ্রামের মৃত. মছদ্দর আলীর ছেলে মো. ছিদ্দেক আলী, শেখ পাড়া গ্রামের মৃত. লিলু মিয়ার ছেলে মো. কছির মিয়া, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কোনাউড়া নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত. আজম আলীর ছেলে মো. ছোরাব উদ্দিন, একই উপজেলার সাতপাড়া গ্রামের মৃত, আব্দুর রহমান এর ছেলে মো. আব্দুর রউফ, নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আস্তফা মিয়ার ছেলে মো. ইরন মিয়াসহ ১০/১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের অন্তরর্গত ছাতক-বিশ্বনাথ উপজেলার সীমান্ত বর্তি এলাকায় অবস্থিত সোনালী বাংলা বাজার। ছাতক উপজেলার ছৈলা- আফজলাবাদ ইউপি, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউপি ও দৌলতপুর ইউপিসহ এই তিনিটি ইউনিয়নের প্রায় ১০/১৫টি গ্রামের স্থানীয় জনসাধারণের হাট-বাজার হিসাবে পরিচিত সোনালী বাংলা বাজার। অভিযুক্তরা সোনালী বাজারে অন্যায় ও দূর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা লোটপাট করে আসছেন। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলেন না। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই ২ লক্ষ টাকা নিয়ে বাজারে হাজির হতে হয়।

সামাজিক ভাবে এই ধরনের আইন করে এই বাজার এলাকায় এখলাছুর রহমান ফয়েজ ও মো. ছিদ্দেক আলী নেতৃত্বে ক্ষমতার দাপট চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। স্থানীয় হাট বাজারে বাজার পরিচালনার জন্য ব্যবসীদের মাধ্যমে ১টি কমিটি থাকে, কিন্তু অভিযুক্তরা এই সুযোগ দেন নাই। তারা তাদের ইচ্ছা মত ২টি কমিটি রাখেন। একটি জেনারেল কমিটি অপরটি ম্যানেজিং কমিটি। জেনারেল কমিটির সভাপতি থাকেন এখলাছুর রহমান ফয়েজ আর ম্যানেজিং কমিটির ক্যাশিয়ার থাকেন মো. ছিদ্দেক আলী। তারা সোনালী বাংলা বাজারের দক্ষিনে মাকুন্দা নদীর তীর যাহা ১নং খতিয়ান ভূক্ত ভূমি বিগত প্রায় ২ বছর আগে বিক্রি করে ২০-২১ লাখ টাকা টাকা উপার্জন করেন। নদীর তীরে পাকা দালান দোকানঘর তোলার অনুমতি দেন। পরবর্তীতে এই ব্যাপারে সরকারী ভাবে বাধা নিষেধ আসলে কাজ স্থগিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

সম্প্রতি আবার অভিযুক্তরা আইনের চুখে ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে নদীর তীরে পাকা দোকান ঘরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নদীর তীর ঘেষে সরকারি পাকা রাস্তা রয়েছে। ভবিষৎতে এই সরকারি রাস্তা বর্ধিত করার প্রয়োজন দেখা দিলে সমস্যা দাঁড়াতে পারে। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, বাজারের আরোও দোকান কোঠা বিক্রি করে লাখ রাখ টাকা আত্মসাৎ করার পায়তারা করা হচ্ছে। এমতাবস্তায় অবস্থায় স্থানীয় সোনালী বাংলা বাজারকে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বাজারের শান্তি শৃঙ্খলা সু-বহাল রাখার স্বার্থে ও অভিযুক্তদের কবল থেকে বাজার উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, অভিযোগটি আমার হাতে পৌছায়নি, তবে অফিসে খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।